হাদীস নং – ১
একদা নবী করীম (সঃ) এক মজলিসে সাহাবাদের সাথে কথাবার্তায় রত ছিলেন। এ সময় হঠাৎ এক গ্রাম্য ব্যক্তি তথায় আগমন করে হুযুর (সঃ)-কে প্রশ্ন করল, কেয়ামত কখন সংঘটিত হবে। হুযুর (সঃ) তাকে কিছু না বলে লোকদের সাথে কথাবার্তায় রত রইলেন। তা দেখে কেউ কেউ বললেন, হুযুর তার প্রশ্ন শুনেছেন, কিন্তু তার তা পছন্দনীয় হয়নি। আবার কেউ কেউ বললেন, তিনি তার কথা অবশ্যই শুনেছেন। ইত্যবসরে হুযুর (সঃ) সাহাবীদের সাথে কথা সমপ্ত করে বললেন, কেয়ামত সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায়? প্রশ্নকারী বললেন, হুযুর! আমি এখানে আছি। তখন হুযুর (সঃ) বললেন, যখন আমানতের খেয়ানত করা হবে, তখন কেয়ামতের অপেক্ষা কর। অতঃপর প্রশ্নকারী বললেন, খেয়ানত কিভাবে হবে? হুযুর (সঃ) বললেন, যখন অনুপযুক্ত ব্যক্তিদের হাতে নেতৃত্ব প্রদান করা হবে, তখনই কেয়ামতের অপেক্ষা করো।
হাদীস নং – ২
হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) ইরশাদ করেছেন, কেয়ামতের আলামতসমূহের মধ্যে কিছু আলামত হল — ইলম্ উঠিয়ে নেয়া হবে, মূর্খতা প্রতিষ্ঠা পাবে। মদ বেশি বেশি পান করা হবে এবং যেনা ব্যভিচার প্রকাশ পাবে।
হাদীস নং – ৩
আনাস (রাঃ) বলেন, আমি তোমাদেরকে এমন এক হাদীস শুনাব, য আমার পরে তোমাদেরকে কেউ শুনাবে না। আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, কেয়ামতের আলামতসমূহের মধ্য হতে কিছু আলামত হল ইলম্ কম হবে, মূর্খতা বেশি প্রকাশ পাবে, মহিলাদের সংখ্যা বেশি এবং পুরুষদের সংখ্যা কম হবে, এমনকি প্রতি পঞ্চাশ জন মহিলার জন্য একজন পুরুষ পরিচালক হবেন।
সূত্রঃ কিতাব – কিতাবুল বোখারী, অধ্যায় – কিতাবুল ইলম্
হাদীস নং – ৪
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সঃ) বলেছেন – কিয়ামাত কায়েম হবে না, যে পর্যন্ত না ইল্ম উঠিয়ে নেওয়া হবে, অধিক পরিমাণ ভূমিকম্প হাবে, সময় সংকুচিত হয়ে আসবে, ফিত্না প্রকাশ পাবে এবং হারজ (খুন-খারাবী/হত্যা) বৃদ্ধি পাবে।তোমাদের ধন-সম্পদ এত বৃদ্ধি পাবে যে, উপচে পড়বে।
সূত্রঃ কিতাব – কিতাবুল বোখারী, অধ্যায় – কিতাবুল ইস্তেস্কার
হাদীস নং – ৫
হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী করীম (সঃ) বলেছেন, কেয়ামত সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত তোমাদের মাঝে ধন সম্পদের এতটা প্রাচুর্য দেখা না দিবে যে, তা (ধনভান্ডার ভর্তি হয়ে) উপচে পড়ছে। এমন কি সম্পদের মালিক তখন ভাবনায় পড়বে, কে তার দান (যাকাত) গ্রহণ করবে এবং সে ঐ সম্পদ (দানের জন্য) পেশ করবে, কিন্তু যার সামনেই তা পেশ করবে সেই বলবে, আমার (ধন সম্পদের) প্রয়োজন নেই।
সূত্রঃ কিতাব – কিতাবুল বোখারী, অধ্যায় – কিতাবুয-যাকাত
হাদীস নং – ৬
আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়াজুজ ও মাজুজ বের হওয়ার পরও বায়তুল্লাহর হজ্জ ও উমরা পালিত হবে। আবান ও ইমরান (রাঃ) কাতাদা (রাঃ) থেকে হাদীস বর্ণনায় হাজ্জাজ্জ বিন হাজ্জাজের অনুসরণ করেছেন। আব্দুর রাহ্মান (রাঃ) শুবা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, বায়তুল্লাহর হজ্জ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না।
সূত্রঃ কিতাব – কিতাবুল বোখারী, অধ্যায় – কিতাবুল-মানাছিকি(হজ্জের আহকাম পর্ব)
হাদীস নং – ৭
হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী করীম (সঃ) ইরশাদ করেছেন, ইবনে মরীয়াম (ঈসা (আঃ)) যে পর্যন্ত ন্যায়বিচারক হয়ে তোমাদের মধ্যে না আসবেন, সে পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না।তিনি আগমন করার পর ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শূকর হত্যা করবেন এবং জিযিয়া কর তুলে দিবেন। তখন ধন সম্পদের এতটা প্রাচুর্য হবে যে, কেউ তা গ্রহণ করবে না।
সূত্রঃ কিতাব – কিতাবুল বোখারী, অধ্যায় – জুলুম ও হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণ পর্ব
হাদীস নং – ৮
আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূল (সঃ) ইরশাদ করেছেন, কেয়ামত কায়েম হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা ইহুদীদের সাথে এমন অবস্থায় যুদ্ধ করবে যে, (আত্ম্ররক্ষার্থে) পাথরের আড়ালে লুক্কায়িত ইহুদী সম্পর্কে পাথর বলবে, হে মুসলিম! আমার পেছনে এক ইহুদী লুক্কায়িত আছে, তাকে বধ কর।
সূত্রঃ কিতাব – কিতাবুল বোখারী, অধ্যায় – কিতাবুল-জিহাদ
হাদীস নং – ৯
আমর বিন তাগলেব (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) ইরশাদ করেছেন, কেয়ামতের আলামতসমূহের একটি হল, তোমরা এমন এক সম্প্রদায়ের সাথে যুদ্ধ করবে, যারা পশমের তৈরী জুতা পরিধান করে। অপর এক আলামত হল, তোমরা শেষ যামানায় এমন এক সম্প্রদায়ের সাথে যুদ্ধ করবে, যারা চওড়া চেহারা বিশিষ্ট, তাদের চেহারাগুলো যেমনি চওড়া তেমনি শারীরিক গঠনও স্থুল।
সূত্রঃ কিতাব – কিতাবুল বোখারী, অধ্যায় – কিতাবুল-জিহাদ
হাদিস নং-১০
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত, নবী করীম (সঃ) বলেন, কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না তোমরা এমন জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে যাদের জুতা হবে পশমের। আর কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না তোমরা এমন জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যাদের মুখমন্ডল হবে পিটানো চামড়ার ঢালের ন্যায়। সুফিয়ান (রঃ) বলেন, আ’রাজ সূত্রে আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে আবূ-যিনাদ এই রেওয়াতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন; তাদের চোখ হবে ছোট নাক হবে চেপ্টা, তাদের চেহারা হবে পেটানো ঢালের ন্যায়।
সূত্রঃ
কিতাব – কিতাবুল বোখারী,
অধ্যায় – কিতাবুল ইলম্(হাদিস নং-১,২,৩), কিতাবুল ইস্তেস্কার(হাদিস নং-৪), কিতাবুয-যাকাত(হাদিস নং-৫), কিতাবুল-মানাছিকি(হজ্জের আহকাম পর্ব)(হাদিস নং-৬), জুলুম ও হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণ পর্ব(হাদিস নং-৭), কিতাবুল-জিহাদ(হাদিস নং-৮,৯,১০)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন