১. হাজার চেষ্টা করলেও জিহ্বা দিয়ে আপনি আপনার সব দাঁত স্পশ করতে পারবেন না।
২. এই ধ্রব সত্যটা পরীক্ষা করতে আপনি এর মধ্যেই একবার জিহ্বা দিয়ে দাঁত স্পশ করার চেষ্টা করেছেন। কী সত্যি না?
৩. এবং আপনি আবিস্কার করে ফেলেছেন যে জিহ্বা দিয়ে আসলে সব দাঁত স্পশ করা যায়।
৪. আপনি এখন হাসছেন,হা…..হা….কারণ আপনি বুঝে ফেলেছেন যে আপনি একটা বোকামি করেছেন ।
৫. বন্ধুকে বোকা বানাতে লেখাটি তাঁকেও পড়তে দিন এবং খেয়াল করুন তিনি জিহ্বা দিয়ে দাঁত স্পশ করার চেষ্টা করেন কি না ।
লেখটি আসলে মজা করার জন্য কেউ মাইন্ড খাইবেনা দয়া করে ।
আজ করব, কাল করব, সকালে করব, বিকেলে করব। এই করি করি করে করা আর হয়না। আর করা হলেও হয় শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে। ধীরে সুস্থে ভাল ভাবে করারজন্যে কাজটি রেখে দিলেও শেষ মুহুর্তে তাড়াহুড়ো করে করতে গিয়ে দেখা যায় যেদায়সারা ভাবে কাজটি শেষ করতে হয়। অথচ আমরা একটু সচেষ্ট হলেই এইদীর্ঘসূত্রিতা কাটিয়ে উঠতে পারি। জীবনকে করে তুলতে পারি আরও সফল আরওআনন্দময়। কেন আমরা দীর্ঘসূত্রিতা কাটিয়ে উঠতে পারি না? কেন আমরা দীর্ঘসূত্রিতা কাটিয়ে উঠতে পারি না এই ব্যপারে মনোবিজ্ঞানী ড.লিন্ডা অনেকদিন দীর্ঘ গবেষনা করেছেন। তিনি সব ধরণের দীর্ঘসূত্রিতার পেছনেইতিনটি সাধারন অনুভূতি বা আচরন সনাক্ত করেছেন। ১. আমরা বড় বড় কাজ করতে চাই কিন্তু সে লক্ষ্যে বাস্তবে কাজ শুরু করি না। ২. কাজ শুরু না করার ব্যাখ্যা দাড় করাতে আমরা মেধাবি। ৩. আমরা জানি যে দীর্ঘসূত্রিতা দ্বারা আমরা আমাদের সুখকে স্যাবোটেজকরছি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই অনুশোচনা দীর্ঘসূত্রিতাকে আরো বাড়িয়ে দেয়।আমাদের জীবন আত্মপরাজয়ের দিকে ধাবিত হয়। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে দীর্ঘসূত্রিতার মূল কারণ আলস্য নয়। দীর্ঘসূত্রিতার মূল কারণ হচ্ছে এক অজানা আশংকা।এইআশংকা বা ভয় হতে পারে পরিবর্তনের ভয়, নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয়, অশান্তির ভয়বা অন্য কোন ভয় যার অস্তিত্ব রয়েছে আপনার মনের গহীনে। আর দীর্ঘসূত্রি মানুষসব সময় পেছনে পড়ে থাকে। অন্যরা যখন সাফল্যের সোপানে ধাপে ধাপে এগিয়ে যায়, সে তখন পেছন থেকে দেখে আর দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।দীর্ঘসূত্রিতার প্রধান ধরন ৬টি। ১.স্বপ্নচারীঃএরা সব সময় চায় জীবন সহজ হোক কষ্ট মুক্তহোক। এরা বাস্তব জীবন থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখে। নিজেকে আকাশ কুসুমকল্পনার মাঝে ডুবিয়ে দেয়। আকাশ কুসুম কল্পনার মাঝে ডুবে থাকতেই ভালোবাসে।কারণ সেখানে কিছুই তাদের জন্য হুমকি নয়।তারা মনে করে তারা বিশেষ প্রজাতিরমানুষ। তাদের নিয়ম অনুসরন করার প্রয়োজন নেই। এই ধরনের স্বপ্নাচারীদৃষ্টিভঙ্গি তাদের পেশাগত,পারিবারিক,পারিপার্শ্বিক সমস্যা সৃষ্টি করে। যাপরিণামে তার মধ্যে এক পলায়নী মনোবৃত্তি জন্ম দেয়। প্রতিকারঃআপনি যদি এ ধরনের স্বপ্নাচারী হন তবে ‘মুহুর্তের ভালোলাগা’ আর ‘নিজেকে ভালোলাগা’ এর মধ্যে পার্থক্য করতে শিখুন।আপনি যদি এখন দিবাস্বপ্নে ডুবে থাকেন বা টেলিভিশনের সামনে বসে অলস সময়কাটান, তাহলে এটা হচ্ছে ‘মুহুর্তের ভালোলাগা’। কিন্তু আপনি যদি নতুন কিছুশেখেন, নতুন কোন দক্ষতা অর্জনে সময় ব্যয় করেন, তাহলে আপনার আত্মবিশ্বাসবাড়বে, নিজের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়বে। এটা হচ্ছে ‘নিজেকে ভালোলাগা’। কাজটাএখনি করতে হবে এবং এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই আপনাকে কাজে নামতে হবে। বাস্তবতারআলোকে প্রতিদিন কি কি করা যায় এবং তা করার জন্য কি কি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপনেয়া যায়, তা লিখে ফেলুন। দিনের শেষে কিছুটা সময় ব্যয় করুন দিনের কাজপর্যালোচনায়। বারবার নিজেকে বলুন, আজকের কাজ আজকেই করব। ২. দুশ্চিন্তাকারীঃদুশ্চিন্তাকারীরা সব সময় নিরাপত্তাও নিশ্চয়তাকেই সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দেয়। আর এজন্যে তাকে মুল্যও দিতে হয়অনেক। তার নিরাপদ আরামদায়ক এলাকার সীমানা খুবই ছোট। কোন ঝুঁকি বাপরিবর্তনের মুখোমুখি হলেই দুশ্চিন্তায় তার হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসে।ঝর্ণাধারার মত অবিরাম গতিতে দুশ্চিন্তার প্রবাহ চলতে থাকে তার মনের ভেতরে। ‘যদি এই এই হয়’ তাহলে কি অবস্থা দাড়াবে এই নেতিবাচক আশংকায় সে একেবারেসংকুচিত হয়ে যায়। যদি এই বিরক্তিকর চাকরিটা ছেড়ে দেই তবে যদি আর কোন চাকরিখুজে না পাই? এই আশংকায় সে চাকরি ছাড়তে পারে না। অনিশ্চয়তা মোকাবেলা করারচেয়ে সে একঘেয়ে নিরাপদ জীবনকেই বেছে নেয়। সাধারণত দেখা যায়, এই ধরনেরদুশ্চিন্তাকারীদের বাবা-মা বা অভিভাবক রয়েছেন, যারা এদের প্রতিটি প্রয়োজনপূরণে এগিয়ে আসেন এবং অবচেতনভাবে তাদের সন্তান যে তাদেরকে ছাড়া চলতে পারেনা এই অনুভূতিতে আনন্দ পান। দুশ্চিন্তাকারীদের জীবনে আনন্দ খুবই কম থাকে।তারা সহজেই ক্লান্ত হয়ে যায়। প্রতিকারঃঅধিকাংশ দুশ্চিন্তাকারীর অন্তরেই ঘুমিয়ে আছেপ্রানবন্ত সাহসী সত্তা। আপনি যদি একঘেয়েমিতে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, যদিকিছুই ভালো না লাগে, তাহলে আপনাকে বলিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সব কিছুরমাঝেই বিপদ কল্পনা করা থেকে বিরত থাকুন। সিদ্ধান্ত নিন। কারণ সিদ্ধান্ত নেয়া থেকে বিরত থাকাও এক ধরনের সিদ্ধান্ত। আর তা নিজেরজন্যেই ক্ষতিকর। নতুন পরিস্থিতি ও পরিবেশ সম্পর্কে শুধুমাত্র খারাপ দিকগুলোনা ভেবে সম্ভবনাগুলো নিয়ে ভাবুন। ভাল দিকগুলো নিয়ে ভাবলে অনুভূতিই পাল্টেযাবে। আপনি নতুন সুযোগ গ্রহন করতে পারবেন। নতুন কাজে হাত দেবার সাহস পাবেন। ৩. অমান্যকারীঃকর্তৃত্ব বা ক্ষমতার বিরুদ্ধে এদেরক্ষোভ রয়েছে। কিন্তু এরা এই ক্ষোভ প্রকাশ করে খুবই সঙ্গোপনে।এই ধরনেরদীর্ঘসূত্রিতাকারী কাউকে যদি বলেন ‘এ কাজটা করে দাও’ সে সাথে সাথে বলবে ‘ঠিক আছে করে দেব।’ কিন্তু তারপর সে তার প্রতিজ্ঞার কথা ভুলে যাবে অথবাআধাআধি করে কাজটি করবে বা অনেক দেরিতে কাজটি করবে। ব্যক্তিগত বা পারিবারিকসম্পর্কের ক্ষেত্রেও এরা অন্যের প্রয়োজন পূরনের বেলায় এই কৌশল অবলম্বন করে। এ ধরনের আচরন তাকে ক্ষমতার অনুভূতি প্রদান করে। কিন্তু এর ফলে তারসহকর্মী বা সঙ্গীরা নিজেদেরকে অবহেলিত ও ব্যবহৃত ভাবে। পরিণামে অমান্যকারীনিজেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হবার পর সে নিজেকে এই বলে স্বান্তনা দেয়যে, এই জটিল বিশ্বে একজন ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ বলেই সে নিজে শাস্তিপাচ্ছে। সে অসুখি হলেও এ নিয়ে গর্বিত। প্রতিকারঃপ্রতিক্রিয়ার বদলে ক্রিয়া করতে শিখুন।নিজেকে জীবনের শিকার মনে করার পরিবর্তে জীবনে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবেভাবুন। অন্যরা আপনার ব্যাপারে কি করছে সে দিক থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে আপনিনিজের জন্যে কি করছেন তা নিয়ে ভাবুন। মনে রাখুন, নিজে উদ্যোগী হওয়া ওপ্রো-এক্টিভ হওয়াই শক্তিমান ও ক্ষমতাবান হওয়ার প্রথম শর্ত। ৪. সংকট সৃষ্টিকারীঃআমরা অধিকাংশই কোন না কোন ভাবেশেষ মুহূর্তে কাজ ভাল করতে পারি। হাতে আর সময় নেই, এখন না করলেই নয়, তখনআমাদের মস্তিষ্ক পূর্ণোদ্দমে কাজ শুরু করে। আমরা কাজ শেষ করি। একজন সংকটসৃষ্টিকারী সবসময় নাটক করতে চায়। এক ধরনের আচরন থেকে অন্য ধরনের আচরনে চলেযায়। প্রথমত সে পরিস্থিতিকে আমল দেয় না। চাপ অনুভব না করলে সে শুরুই করতেপারে না। পরে অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে উঠে। সব বাদ দিয়ে সময়মত কাজ শেষ করারজন্য লেগে যায়। এ ধরণের প্রক্রিয়া তারুণ্যে চলে। কিন্তু ৪০ এর পর এপ্রক্রিয়ার সাথে শরীর আর তাল মেলাতে পারে না। প্রতিকারঃসময়সীমার মাঝে কাজ করা বিরত্বব্যঞ্জক কিছুনয়, এটি নিয়ম। সংকটসৃষ্টিকারীদের কাজের ব্যপারে নিজেকে উদ্বুদ্ধ করারক্ষেত্রে সমস্যায় ভোগেন। নিজেকে পুরোপুরি উদ্বুদ্ধ করতে পারলে আগে থেকেইকাজে হাত দেয়া যায়। ৫. নিখুত কর্ম সম্পাদনকারীঃএরা প্রতিটি কাজইনিখুতভাবে করতে চায়। যে কোন কাজ করতে গেলেই সে তার আত্মমর্যাদাকে এর সাথেজড়িয়ে ফেলে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এরা আদর্শবাদী এবং সময় ও শক্তি ব্যয়েরব্যাপারে অবাস্তববাদী। ওদের কাউকে পেন্সিল চোখা করতে দিতে বলুন। দেখবেন সেহয়তো খুব বিব্রত ভাবে পেন্সিলের দিকে তাকাবে এবং সারা দিনই হয়তো এর দিকেতাকিয়ে তাকিয়ে ভাববে কিভাবে সুন্দর করে পেন্সিলটি চোখা করা যায়। অথবা সেতখনই পেন্সিল চোখা করতে লেগে যাবে এবং দিনের শেষে হয়তো ঠিকই পেন্সিলটিসুন্দর চোখা করে নিয়ে আসবে কিন্তু কাটতে কাটতে এতই ছোট করে নিয়ে এসেছে যেতা দিয়ে আপনি লিখতেই পারবেন না। এরা প্রতিটি জিনিসকেই হয় একেবারে নিখুত, নয়একেবারে কিছুই না এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে। নিখুত কর্ম সম্পাদনকারীরা মনেরগভীরে সবসময় মনে করে পুরোপুরি না পারলেই শেষ হয়ে গেলাম। দীর্ঘসূত্রিতা এদেরকাছে বিচারকে বিলম্বিত করারই একটা প্রক্রিয়া, আপনি না খেললে কখনো হারবেননা। কাজ না করলে ব্যর্থও হবেন না। প্রতিকারঃআপনার দৃষ্টি ভঙ্গি বদলাতে হবে। আপনার কিকরা উচিত তা না ভেবে আপনি কতটুকু করতে পারেন তা নিয়ে ভাবুন। কোন মানুষইনিখুত নয়। তাই কোন কাজও নিখুত হতে পারে না। আপনার মাঝে মাঝে ভুল করা উচিত।টেবিলের উপর আধবেলা সব এলোমেলো করে রাখুন। পোশাকে একটু খুত থাকুক না একবেলা। যখন দেখবেন এর ফলে পৃথিবী ধংস হয়ে যাচ্ছে না, তখনই আপনি শিখবেন-নিখুত নয়, সুন্দরভাবে কাজ করাটাই গুরুত্বপুর্ণ। ৬. সব কাজের কাজীঃসব কাজের কাজীকে কখনও দীর্ঘসূত্রীমনে হয়না। কারণ সে সবসময় ব্যস্ত। সবসময় কাজ করতে চায়। সে সবাইকে খুশি করতেচায়। সবার কাজ করে দিতে চায়, কাউকেই না বলতে পারে না। সব কাজের কাজী কেআপাত দৃষ্টিতে দেখলে মনে হয়,সেই সফল হবে।কিন্তু বাস্তবে তা হয়না।আত্মনির্ভরশীল হওয়া ও সব কাজ করার সংগ্রামে সে তার কাজ ও সময়ের মাঝে সমন্ময়করতে ব্যর্থ হয়। যাদের সে খুশি করতে চেয়েছিল, তাদেরকেও সে খুশি করার জন্যমরিয়া হয়ে চেষ্টা করে, তাদেরকেও সে খুশি করতে পারে না। কারণ সে তারসামর্থ্যের অতিরিক্ত কাজ হাতে নিয়েছিল। প্রতিকারঃসব কাজের কাজীদের উচিত না করতে শেখা। হাতেসময় ও কাজ কতটা আছে সেটা বিবেচনা করে হ্যাঁ বলুন। যতটুকু আপনি করতে পারেনততটুকুই করুন। বাকিটুকু ছেড়ে দিন অন্যদের জন্যে। তা হলেই আপনি সুখী হবেন। আপনি এবার চিন্তা করুন এ ৬ ধরনের দীর্ঘসূত্রীর মধ্যে আপনি কোন গ্রুপেপরেন, সেভাবে পদক্ষেপ নিন। দীর্ঘসূত্রিতা থেকে মুক্ত হয়ে সুন্দর জীবনেরপ্রতি অগ্রসর হোন। বি.দ্র. এই লেখাটি শ্রদ্ধেয় শহীদ আল বোখারী মহাজাতক এর লিখাআত্মনির্মান বইয়ের অংশবিশেষ। এটা আমার নিজস্ব কোন লিখা না। ভালো লেগেছে তাইআপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। বইটিতে এ ধরনের আত্ম উন্নয়ন মূলক অনেকগুলোচমৎকার লিখা আছে। আশা করি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে।